1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 1
ধৃতরাষ্ট্র উবাচধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ।
মামকাঃ পান্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়।। ১.১।।
ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করলেন, হে সঞ্জয়! ধর্মভূমি কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের ইচ্ছায় সমবেত আমার এবং পান্ডুর পুত্রগণ কী করল?
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 2
সঞ্জয় উবাচদৃষ্ট্বা তু পাণ্ডবানীকং ব্যূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা।
আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ।। ১.২।।
সঞ্জয় বললেন, তখন বূহ্যদ্বারা সজ্জিত পাণ্ডব সৈন্যগণকে দেখে, রাজা দুর্যোধন দ্রোণাচার্যের কাছে গিয়ে বললেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 3
পশ্যৈতাং পান্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং চমূম্ ।ব্যূঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা।। ১.৩।।
হে আচার্য! আপনার বুদ্ধিমান শিষ্য দ্রুপদের পুত্র কর্তৃক বূহ্য আকারে রচিত পান্ডবদের এই বিসাল সৈন্যসমূহ দেখুন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 7
অস্মাকং তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম।নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তান্ ব্রবীমি তে।। ১.৭।।
হে দ্বিজোত্তম! আমাদের পক্ষেও আমার যে সমস্ত বিশিষ্ট সেনাগণ আছেন তাঁদের লক্ষ করুন, আপনার অবগতির জন্য তাঁদের সম্বন্ধে বলছি।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 8
ভবান্ ভীষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিঞ্জয়ঃ।অশ্বত্থামা বিকর্ণশ্চ সৌমদত্তিস্তথৈব চ।। ১.৮।।
আপনি, ভীষ্ম, কর্ণ এবং সর্বদা যুদ্ধে বিজয়ী কৃপাচার্য, তেমনি অশ্বত্থামা, বিকর্ণ এবং সোমদত্তের পুত্র।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 9
অন্যে চ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ। নানাশস্ত্রপ্রহরণাঃ সর্বে যুদ্ধবিশারদাঃ।। ১.৯।।
এ ছাড়াও আরও বহু যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা আমার জন্য তাঁদের জীবন ত্যাগ করতে প্রস্তুত, তাঁরা সকলেই নানা প্রকার অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত এবং সর্বপ্রকার যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 10
অপর্যাপ্তং তদস্মাকং বলং ভীষ্মাভিরক্ষিতম্ ।পর্যাপ্তং ত্বিদমেতেষাং বলং ভীমাভিরক্ষিতম্।। ১.১০।।
ভীষ্মের দ্বারা রক্ষিত আমাদের সৈন্যবল অপরিমেয় কিন্তু ভীমের দ্বারা রক্ষিত পান্ডবদের সৈন্যবল সীমিত।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 11
অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমস্থিতাঃ।ভীষ্মমেবাভিরক্ষন্ত্ত ভবন্তঃ সর্ব এব হি।। ১.১১।।
এখন আপনারা সকলে সেনাব্যূহের প্রবেশপথে নিজ নিজ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করে পিতামহ ভীষ্মকে সর্বতোভাবে রক্ষা করুন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 12
তস্য সঞ্জনয়ন্ হর্ষং কুরুবৃদ্ধঃ পিতামহঃ।সিংহনাদং বিনদ্যাচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্মৌ প্রতাপবান্।। ১.১২।।
কুরুবংশের বৃদ্ধ পিতামহ তাঁর হর্ষ উৎপাদন করে সিংহের গর্জনের মতো অতি উচ্চনাদে শঙ্খ বাজালেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 13
ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পণবানকগোমুখাঃ।সহসৈবাভ্যহন্যন্ত স শব্দস্তুমুলোহভবৎ।। ১.১৩।।
তারপর শঙ্খ, ভেরী, পণ, বন, গোমুখ প্রভৃতি বাদ্য একত্রে ধ্বনিত হয়ে এক তুমুল শব্দের সৃষ্টি হয়েছিল।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 14
ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈর্যুক্তে মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ। মাধবঃ পান্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্মতুঃ।। ১.১৪।।
তারপর, শ্বেত অশ্বযুক্ত এক মহান রথে স্থিত মাধব এবং পাণ্ডুপুত্র তাঁদের দিব্য শঙ্খগুলি বাজালেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 15
পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ। পৌণ্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকদরঃ।। ১.১৫।।
হৃষীকেশ পাঞ্চজন্য নামক শঙ্খ, ধনঞ্জয় দেবদত্ত নামক শঙ্খ এবং বিপুল ভোজনপ্রিয় ভীমকর্মা পৌন্ড্র নামক মহাশঙ্খ বাজালেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 16
অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো যুধিষ্ঠিরঃ। নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষমণিপুষ্পকৌ।। ১.১৬।।
কুন্তীপুত্র রাজা যুধিষ্ঠির অনন্তবিজয় নামক শঙ্খ এবং নকুল ও সহদেব বাজালেন সুঘোষ ও মণিপুষ্প নামক শঙ্খ।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 17-18
কাশ্যশ্চ পরমেষ্বাসঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ। ধৃষ্টদ্যুম্নো বিরাটশ্চ সাত্যকিশ্চাপরাজিতঃ।। ১.১৭।।
দ্রুপদো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে।
সৌভদ্রশ্চ মহাবাহুঃ শঙ্খান্ দধ্মুঃ পৃথক্ পৃথক্।। ১.১৮।।
হে মহারাজ! মহান ধনুর্ধর কাশীরাজ, মহারথী শিখন্ডী, ধৃষ্টদ্যুম্ন, বিরাট এবং অপরাজেয় যোদ্ধা সাত্যকি, দ্রুপদ, দ্রৌপদীর পুত্রগণ, শক্তিশালী বাহুর অধিকারী সুভদ্রার পুত্র পৃথক পৃথকভাবে শঙ্খ বাজালেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 19
স ঘোষো ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি ব্যদারয়ৎ। নভশ্চ পৃথিবীং চৈব তুমুলোহভ্যনুনাদয়ন্।। ১.১৯।।
সেই প্রচন্ড ধ্বনি আকাশ ও পৃথিবীকে প্রতিধ্বনিত করে ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের হৃদয় বিদীর্ণ করল।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 20
অথ ব্যবস্থিতান্ দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্ কপিধ্বজঃ। প্রবৃত্তে শস্ত্রসম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পান্ডবঃ।
হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে।। ১.২০।।
হে মহীপতে! তখন ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের সমরসজ্জায় বিন্যস্ত দেখে হনুমান চিহ্নিত পতাকা শোভিত রথে অধিষ্ঠিত অর্জুন অস্ত্রনিক্ষেপে প্রবৃত্ত হয়ে তাঁর ধনুর্বাণ উত্তোলন পূর্ব্বক হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণকে এই কথাগুলি বললেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 21-22
অর্জুন উবাচসেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেহচ্যুত।
যাবদেতান্নিরীক্ষেহহং যোদ্ধুকামানবস্থিতান্।। ১.২১।।
কৈর্ময়া সহ যোদ্ধব্যমস্মিন্ রণসমুদ্যমে।। ১.২২।।
অর্জুন বললেন, হে অচ্যুত! তুমি উভয় পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে আমার রথ স্থাপন কর, যতক্ষণ না আমি দেখি যুদ্ধচ্ছায় কারা এখানে এসেছে এবং এই রণাঙ্গনে আমাকে কাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 23
যোৎস্যমানানবেক্ষেহহং য এতেহত্র সমাগতাঃ। ধার্তরাষ্ট্রস্য দুর্বদ্ধের্যুদ্ধে প্রিয়চিকীর্ষবঃ।। ১.২৩।।
ধৃতরাষ্ট্রের দুর্বুদ্ধি সম্পন্ন পুত্রগণের হিতকামনায় যারা এখানে যুদ্ধ করতে এসেছে, তাদের আমি দেখতে চাই।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 24
সঞ্জয় উবাচএবমুক্তো হৃষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত।
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমম্।। ১.২৪।।
সঞ্জয় বললেন, হে ভারত! গুড়াকেশ অর্জুন এ কথা বললে, হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণ সেই অতি উত্তম রথটি উভয় পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে রাখলেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 25
শ্রীকৃষ্ণ উবাচভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাং চ মহীক্ষিতাম্ ।
উবাচ পার্থ পশ্যৈতান্ সমবেতান্ কুরূনিতি।। ১.২৫।।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে পার্থ! এখানে ভীষ্ম, দ্রোণ প্রমুখ সমস্ত নৃপতিদের এবং সমবেত সকল কৌরবদের দেখ।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 26
তত্রাপশ্যৎ স্থিতান্ পার্থঃ পিতৃনথ পিতামহান্। আচার্যা ন্মাতুলান্ ভ্রাতৃন্ পুত্রান্ পৌত্রান্ সখীংস্তথা।
শ্বশুরান্ সুহৃদশ্চৈব সেনয়োরুভয়োরপি।। ১.২৬।।
তখন অর্জুন উভয় পক্ষের সেনাদলের মধ্যে পিতৃব্য, পিতামহ, আচার্য, মাতুল, ভ্রাতা, পুত্র, পৌত্র, শশুর, মিত্র ও শুভাকাঙ্খীদের উপস্থিত দেখতে পেলেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 27
তান্ সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্ বন্ধুনবস্থিতান্। কৃপয়া পরায়াবিষ্টো বিষীদন্নিদমব্রবীৎ।। ১.২৭।।
কুন্তীপুত্র অর্জুন সকল রকমের বন্ধুদের অবস্থিত দেখে, অত্যন্ত করুণায় আচ্ছন্ন ও বিষণ্ণ হয়ে এভাবে বললেন।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 28
অর্জুন উবাচদৃষ্ট্বেমং স্বজনং কৃষ্ণ যুযুৎসুং সমুপস্থিতম্।
সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখং চ পরিশুষ্যতি।। ১.২৮।।
অর্জুন বললেন, হে কৃষ্ণ! যুদ্ধাভিলাষী স্বজনদের একত্রে উপস্থিত দেখে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবসন্ন হচ্ছে এবং মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 29
বেপথুশ্চ শরীরে মে রোমহর্যশ্চ জায়তে। গান্ডীবং স্রংসতে হস্তাৎ ত্বক্ চৈব পরিদহ্যতে।। ১.২৯।।
আমার সর্বশরীর কম্পিত এবং রোমাঞ্চিত হচ্ছে, হাত থেকে গান্ডীব পড়ে যাচ্ছে এবং ত্বক যেন জ্বলছে।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 30
ন চ শক্নোম্যবস্থাতুং ভ্রুমতীব চ মে মনঃ। নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি কেশব।। ১.৩০।।
হে কেশব! আমি স্থির থাকতে পারছি না, আমার মন যেন চঞ্চলভাবে ঘুরছে এবং বিপরীত লক্ষণসমূহও দেখছি।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 31
ন চ শ্রেয়োহনুপশ্যামি হত্বা স্বজনমাহবে। ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ।। ১.৩১।।
হে কৃষ্ণ! স্বজনদের নিধন করে কোন কল্যাণ দেখছি না, যুদ্ধে জয়লাভ কামনা করি না, রাজ্য এবং সুখভোগও নয়।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 32-33
কিং নো রাজ্যেন গোবিন্দ কিং ভোগৈর্জীবিতেন বা। যেষামর্থে কাঙ্ক্ষিতং নো রাজ্যং ভোগাঃ সুখানি চ।। ১.৩২।।
ত ইমেহবস্থিতা যুদ্ধে প্রাণাংস্ত্যক্তা ধনানি চ।
আচার্যাঃ পিতরঃ পুত্রাস্তথৈব চ পিতামহাঃ।। ১.৩৩।।
হে গোবিন্দ! আমাদের রাজ্যে কি প্রয়োজন, সুখভোগ বা জীবন ধারণেই বা কী প্রয়োজন? যাদের জন্য রাজ্য ও সুখভোগের কামনা, তারা সকলেই যুদ্ধে প্রাণ এবং ধনসম্পদও ত্যাগ করে দাঁড়িয়ে আছেন আচার্যগণ, পিতৃব্যগণ, পুত্রগণ সেইরূপ পিতামহ।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 34
মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্যালাঃ সম্বন্ধিনস্তথা। এতান্ন হন্তুমিচ্ছামি ঘ্নতোহপি মধূসূদন।। ১.৩৪।।
হে মধুসূদন! মাতুলগণ, শ্বশুরগণ, পৌত্রগণ, শ্যালকগণ তেমনই আত্মীয়গণ এঁদের আমি হত্যা করতে চাই না যদিও তাঁরা আমাকে হত্যা করতে উদ্যত।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 35
অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু মহীকৃতে। নিহত্য ধার্তরাষ্ট্রন্নঃ কা প্রীতিঃ স্যাজ্জনার্দন।। ১.৩৫।।
হে জনার্দন! পৃথিবীর তো কথাই নেই, এমন কি ত্রিভুবনের বিনিময়েও, ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের হত্যা করে কি সুখ আমাদের লাভ হবে?
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 36
পাপমেবাশ্রয়েদস্মান্ হত্বৈতানাততায়িনঃ।তস্মান্নার্হা বয়ং হন্তুং ধার্তরাষ্ট্রান্ সবান্ধবান্ ।
স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম মাধব।। ১.৩৬।।
হে মাধব! এই আততায়ীদের হত্যা করলে মহাপাপ আমাদের আশ্রয় করবে, অতএব বন্ধুবান্ধবসহ ধৃতরাষ্ট্রেরপুত্রদের হত্যা করা আমাদের উচিত হবে না, স্বজনদের হত্যা করে আমারা কেমন করে সুখী হব?
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 37-38
যদ্যপ্যেতে ন পশ্যন্তি লোভোপহতচেতসঃ। কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্।। ১.৩৭।।
কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্জনার্দন।। ১.৩৮।।
হে জনার্দন! যদিও এরা রাজ্যলোভে আচ্ছন্ন হয়ে কুলক্ষয় জনিত দোষ ও মিত্রদ্রোহ নিমিত্ত পাপ দেখছে না, কিন্তু কুলক্ষয় জনিত দোষ স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেও কেন এই পাপ থেকে নিবৃত্ত হওয়া আমাদের উচিত হবে না?
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 39
কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ। ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোহভিভবত্যুত।। ১.৩৯।।
বলা হয়, কুলক্ষয় হলে সনাতন কুলধর্ম বিনষ্ট হয় এবং ধর্ম নষ্ট হলে সমগ্র বংশ অধর্মে পর্যবসিত হয়।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 40
অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ। স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ।। ১.৪০।।
হে কৃষ্ণ! অধর্ম প্রাদুর্ভাব হলে কুলস্ত্রীগণ কলুষিত হয় এবং হে বার্ষ্ণেয়! কুলস্ত্রীগণ অসৎ চরিত্রা হলে বর্ণসংকর উৎপন্ন হয়।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 41
সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ। পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ।। ১.৪১।।
বর্ণসঙ্কর নরকপ্রাপ্তির কারণ, কুলনাশক বংশেরও তাদের পিন্ডদান ও তর্পণক্রিয়া লোপ পাওয়ায় পিতৃপুরুষেরা পতিত হয়।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 42
দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ।উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ শাশ্বতাঃ।। ১.৪২।।
বর্ণসঙ্করের কারণ এই কুলনাশকদের দোষে শাশ্বত জাতিধর্ম ও কুলধর্ম ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 43
উৎসন্নকুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন। নরকে নিয়তং বাসো ভবতীত্যনুশুশ্রুম।। ১.৪৩।।
হে জনার্দন! কুলধর্ম বিনষ্ট হলে সেই সমস্ত মানুষের সর্বদা নরকে বাস করতে হয়, আমরা এরূপ শুনেছি।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 44
অহো বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্।যদ্ রাজ্যসুখলোভেন হন্তু স্বজনমুদ্যতাঃ।। ১.৪৪।।
হায়! কী মহাপাপ করতে আমরা সংকল্প করেছি, রাজ্যসুখের লোভে স্বজনদের হত্যা করতে উদ্যত হয়েছি।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 45
যদি মামপ্রতীকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ। ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ।। ১.৪৫।।
প্রতিরোধ রহিত ও নিরস্ত্র আমাকে যদি শস্ত্রধারী ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রেরা যুদ্ধে হত্যা করে তবে আমার অধিকতর মঙ্গল হবে।
অধ্যায় : 1 অর্জুনবিষাদযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 46
সঞ্জয় উবাচএবমুক্তার্জুনঃ সংখ্যে রথোপস্থ উপাবিশৎ।
বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানসঃ।। ১.৪৬।।
সঞ্জয় বললেন, এই কথা বলে অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে ধনুর্বাণ ত্যাগ করে, শোকে ভারাক্রান্ত চিত্তে রথের উপর বসে পড়লেন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 1
সঞ্জয় উবাচতং তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রুপূর্ণাকুলেক্ষণম্।
বিষীদন্তমিদং বাক্যমুবাচ মধুসূদনঃ।। ২.১।।
সঞ্জয় বললেন, মধুসূদন অর্জুনকে এভাবে করুণায় আবিষ্ট, ব্যকুল, অশ্রুসিক্ত ও বিষণ্ন দেখে এই কথাগুলি বললেন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 2
শ্রীভগবানুবাচকুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্।
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন।। ২.২।।
শ্রীভগবান বললেন, হে অর্জুন! এই সঙ্কটকালে তোমার মধ্যে কাপুরুষতা কোথা থেকে উপস্থিত হয়েছে, যা অনার্যদের আচরণ, যা উর্ধ্বগামী করে না এবং যা অপযশের কারণ।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 3
ক্লৈব্যং মা স্ম গমঃ পার্থ নৈতত্ত্বয্যুপপদ্যতে। ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্তোত্তিষ্ঠ পরন্তপ।। ২.৩।।
হে পার্থ! নপুংসকতা আশ্রয় করো না, এটি তোমার উপযুক্ত নয়, হে পরন্তপ! হৃদয়ের ক্ষুদ্র দুর্বলতা পরিত্যাগ করে উঠে দাঁড়াও।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 4
অর্জুন উবাচকথং ভীষ্মমহং সংখ্যে দ্রোণং চ মধুসূদন।
ইষুভিঃ প্রতিযোৎস্যামি পূজার্হাবরিসূদন।। ২.৪।।
অর্জুন বললেন, হে মধুসূদন! যুদ্ধে আমি কীভাবে ভীষ্ম ও দ্রোণকে বানের দ্বারা প্রত্যাঘাত করব? এঁরা দুজনেই পূজনীয়, হে অরিসূদন!
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 5
গুরূনহত্বা হি মহানুভাবান্ শ্রেয়ো ভোক্তুং ভৈক্ষ্যমপীহ লোকে।
হত্বার্থকামাংস্তু গুরূনিহৈব
ভুঞ্জীয় ভোগান্ রুধিরপ্রদিগ্ধান্।। ২.৫।।
মহান গুরুজনদের হত্যা না করে এই জগতে ভিক্ষাকরে জীবনধারণ করাই শ্রেয়, হত্যা করে অর্থ কামনা করে ইহ জগতে গুরুজনদের রক্তেসিক্ত ভোগ্যবস্তুইতো ভোগ করতে হবে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 6
ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরন্নো গরীয়ো যদ্ বা জয়েম যদি বা নো জয়েয়ুঃ।
যানেব হত্বা ন জিজীবিষামস্
তেহবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাষ্ট্রাঃ।। ২.৬।।
এটা জানি না আমাদের জন্য কোনটা শ্রেয়, যদি জয়ী হই অথবা আমাদের জয় করে, যাঁদের হত্যা করে জীবনধারণের ইচ্ছা করি না, সেই ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ সম্মুখে অবস্থিত।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 7
কার্পণ্যদোষোপহতস্বভাবঃপৃচ্ছামি ত্বাং ধর্মসম্মুঢ়চেতাঃ।
যচ্ছ্রেয়ঃ স্যান্নিশ্চিতং ব্রুহি তন্মে
শিষ্যস্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্।। ২.৭।।
কার্পণ্যজনিত দুর্বলতার প্রভাবে বিমূঢ়চিত্ত আমি তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করছি, নিশ্চিতভাবে যা শ্রেয় আমাকে বল, আমি তোমার শিষ্য, তোমার শরণাগত, আমাকে নির্দেশ দাও।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 8
ন হি প্রপশ্যামি মমাপনুদ্যাদ্ যচ্ছোকমুচ্ছোষণমিন্দ্রিয়াণাম্।
অবাপ্য ভুমাবসপত্নমৃদ্ধং
রাজ্যং সুরাণামপি চাধিপত্যম্।। ২.৮।।
পৃথিবীতে প্রতিদ্ধন্দ্বিতাবিহীন, সমৃদ্ধশালী রাজ্য এবং দেবতাদের অধিপত্য অর্জন করলেও যে শোক আমার ইন্দ্রিয়সমূহকে শুকিয়ে দিচ্ছে, তা দূর করার কোন উপায় দেখছি না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 9
সঞ্জয় উবাচএবমুক্ত্বা হৃষীকেশং গুড়াকেশঃ পরন্তপ।
ন যোৎস্য ইতি গোবিন্দমুক্ত্বা তূষ্ণীং বভূব হ।। ২.৯।।
সঞ্জয় বললেন, “আমি যুদ্ধ করব না, হে গোবিন্দ!”, গুড়াকেশ পরন্তপ অর্জুন হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণকে এভাবে বলে মৌন হলেন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 10
তমুবাচ হৃষীকেশঃ প্রহসন্নিব ভারত। সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে বিষীদন্তমিদং বচঃ।। ২.১০।।
হে ভারত! উভয় পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে বিষাদগ্রস্থ অর্জুনকে সেই সময় হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণ স্মিত হেসে এই কথা বললেন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 11
শ্রীভগবানুবাচঅশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে।
গতাসূনগতাসূংশ্চ নানুশোচন্তি পণ্ডিতাঃ।। ২.১১।।
শ্রীভগবান বললেন, যাঁদের জন্য শোক করা উচিত নয় তুমি তাঁদের জন্য শোক করছ অথচ প্রাজ্ঞের মতো কথা বলছ, পণ্ডিতগণ জীবিত অথবা মৃত কারও জন্যই শোক করেন না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 12
ন ত্বেবাহং জাতু নাসং ন ত্বং নেমে জনাধিপাঃ। ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বে বয়মতঃপরম্।। ২.১২।।
কোন সময়ে আমি ছিলাম না, তুমি ছিলে না অথবা এই নৃপতিগণও যে ছিল না তা নয়, পরবর্তীতে আমরা সকলে থকবো না তাও নয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 13
দেহিনোহস্মিন্ যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জরা। তথা দেহান্তরপ্রাপ্তিধীরস্তত্র ন মুহ্যতি।। ২.১৩।।
দেহধারীর শরীরে যেভাবে কৌমার, যৌবন এবং বার্ধক্য উপস্থিত হয় তেমনি দেহান্তর প্রাপ্তিও হয়, স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি তাতে মোহগ্রস্থ হন না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 14
মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ।আগমাপায়িনোহনিত্যাস্তংস্তিতিক্ষস্ব ভারত।। ২.১৪।।
হে কৌন্তেয়! শীত, উষ্ণ, সুখ ও দুঃখদায়ক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতিতো আসে এবং চলে যায়, হে ভারত! অস্থায়ী সেগুলি সহ্য করার চেষ্টা কর।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 15
যং হি ন ব্যথয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ। সমদুঃখসুখং ধীরং সোহমৃতত্বায় কল্পতে।। ২.১৫।।
হে পুরুষশ্রেষ্ঠ অর্জুন! যে জ্ঞানী ব্যক্তি সুখ ও দুঃখকে সমান জ্ঞান করেন এবং শীত ও উষ্ণ আদি দ্বন্দ্বে বিচলিত হন না, তিনিই মুক্তি লাভের প্রকৃত অধিকারী।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 16
নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃউভয়োরপি দৃষ্টোহন্তস্ত্বনয়োস্তত্ত্বদর্শিভিঃ।। ২.১৬।।
অনিত্য বস্তুর স্থায়িত্ব নেই এবং নিত্য বস্তুর কখনও বিনাশ হয় না, তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তিরা উভয়ের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করেছেন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 17
অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি যেন সর্বমিদং ততম্। বিনাশমব্যয়স্যাস্য ন কশ্চিৎ কর্তুমর্হতি।। ২.১৭।।
যা সমগ্র জগৎ পরিব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে, তাকে তুমি অবিনাশী বলে জানবে, সেই অব্যয় সত্ত্বার কেউ বিনাশ করতে সক্ষম নয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 18
অন্তবন্ত ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তাঃ শরীরিণঃঅনাশিনোহপ্রমেয়স্য তস্মাদ্ যুধ্যস্ব ভারত।। ২.১৮।।
অবিনাশী, অপরিমেয় ও শাশ্বত আত্মার এই জড় দেহ নিঃসন্দেহে বিনাশশীল, অতএব হে ভারত! তুমি যুদ্ধ কর।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 19
য এনং বেত্তি হন্তারং যশ্চৈনং মন্যতে হতম্।উভৌ তৌ ন বিজানীতো নায়ং হন্তি ন হন্যতে।। ২.১৯।।
যিনি আত্মকে হত্যাকারী জানেন এবং যিনি একে নিহত বলে মেন করেন, তাঁরা উভয়েই জানেন না আত্মা কাউকে হত্যা করেন না এবং কারও দ্বারা নিহতও হন না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 20
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিন্ নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো
ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।। ২.২০।।
আত্মার কখনও জন্ম হয় না, মৃত্যু হয় না অথবা কখনো উৎপন্ন হননি এবং উৎপন্ন হবেনও না। আত্মা জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাতন, শরীর নষ্ট হলেও আত্মা কখনও বিনষ্ট হন না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 21
বেদাবিনাশিনং নিত্যং য এনমজমব্যয়ম্। কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম্।। ২.২১।।
হে পার্থ! যিনি এই আত্মাকে অবিনশ্বর, শাশ্বত, জন্মরহিত ও অক্ষয় বলে জানেন, কিভাবে তিনি কাউকে হত্যা করাবেন বা হত্যা করবেন?
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 22
বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্য-
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।। ২.২২।।
মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে অন্য নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে, আত্মাও তেমনই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে অন্য নতুন শরীর গ্রহণ করে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 23
নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ। ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ।। ২.২৩।।
অস্ত্রসমূহ এই আত্মাকে ছেদন করতে পারে না, আগুন একে দহন করতে পারে না, জল একে আর্দ্র করতে পারে না এবং বায়ু একে শুষ্ক করতে পারে না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 24
অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোয্য এব চ। নিত্যঃ সর্কগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ।। ২.২৪।।
এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য এবং অশোষ্য, এই আত্মা চিরস্থায়ী, সর্বব্যাপ্ত, অপরিবর্তনীয়, অচল এবং সনাতন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 25
অব্যক্তোহয়মচিন্ত্যোহয়মবিকার্যোহয়মুচ্যতে। তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমর্হসি।। ২.২৫।।
এই আত্মা অব্যক্ত, অচিন্ত্য ও অবিকার্য বলে কথিত হয়, অতএব ইহাকে এভাবে জেনে শোক করা উচিত নয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 26
অথ চৈনং নিত্যজাতং নিত্যং বা মন্যসে মৃতম্।তথাপি ত্বং মহাবাহো নৈনং শোচিতুমর্হসি।। ২.২৬।।
হে মহাবাহো! আর যদি তুমি মনে কর, আত্মার সর্বদা জন্ম এবং মৃত্যু হয়, তথাপি তোমার শোক করা উচিত নয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 27
জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুর্ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ। তস্মাদপরিহার্যেহর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।। ২.২৭।।
যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু নিশ্চিত এবং যার মৃত্যু হয়েছে তার জন্মও নিশ্চিত, অতেএব এই অপরিহার্য বিষয়ে তোমার শোক করা উচিত নয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 28
অব্যক্তাদীনি ভুতানি ব্যক্তমধ্যানি ভারত। অব্যক্তনিধনান্যেব তত্র কা পরিদেবনা।। ২.২৮।।
হে ভারত! ভূতগণ আদিতে অপ্রকাশিত, মধ্যে প্রকাশিত এবং বিনাশের পর আবার অপ্রকাশিত হবে অতএব সেই বিষয়ে শোক করার কারণ কি?
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 29
আশ্চর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেনম্আশ্চর্যবদ্ বদতি তথৈব চান্যঃ।
আশ্চার্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি
শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ।। ২.২৯।।
কেউ এই আত্মাকে আশ্চর্যবৎ দর্শন করেন, কেউ আশ্চর্যবৎ বর্ণনা করেন এবং কেউ আশ্চর্যবৎ শ্রবণ করেন, আর কেউ শুনেও তাকে জানতে পারেন না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 30
দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্বস্য ভারত। তস্মাৎ সর্বাণি ভূতানি ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।। ২.৩০।।
হে ভারত! নিত্য অবধ্য এই আত্মা সকলের দেহেই আছে, অতএব কোন জীবের জন্য তোমার শোক করা উচিত নয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 31
স্বধর্মমপি চাবেক্ষ্য ন বিকম্পিতুমর্হসি। ধর্ম্যাদ্ধি যুদ্ধাচ্ছ্রেয়োহন্যৎ ক্ষত্রিয়স্য ন বিদ্যতে।। ২.৩১।।
এমনকি স্বধর্ম বিবেচনা করেও তুমি দ্বিধা করতে পার না, ধর্ম রক্ষার্থে যুদ্ধ করার থেকে ক্ষত্রিয়ের পক্ষে শ্রেয় কিছুই নেই।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 32
যদৃচ্ছয়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারমপাবৃতম্। সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম্।। ২.৩২।।
হে পার্থ! স্বর্গদ্বার উন্মোচনকারী, আপনা হতে উপস্থিত, এই প্রকার ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ, সৌভাগ্যবান ক্ষত্রিয়গণ লাভ করেন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 33
অথ চেত্ত্বমিমং ধর্ম্যাং সংগ্রামং ন করিষ্যসি। ততঃ স্বধর্মং কীর্তিং চ হিত্বা পাপমবাস্প্যসি।। ২.৩৩।।
আর যদি তুমি এই ধর্মযুদ্ধ না কর, তা হলে তোমার স্বীয় ধর্ম এবং কীর্তি পরিত্যাগ করে পাপের ভাগী হবে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 34
অকীর্তিং চাপি ভূতানি কথয়িষ্যন্তি তেহব্যয়াম্।সম্ভাবিতস্য চাকীর্তির্মরণাদতিরিচ্যতে।। ২.৩৪।।
এমনকি সমস্ত লোক তোমার চিরস্থায়ী অকীর্তির কথা বলবে, সম্মানিত ব্যক্তির পক্ষে অসম্মান মৃত্যু অপেক্ষা অধিক।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 35
ভয়াদ্রণাদুপরতং মংস্যন্তে ত্বাং মহারথাঃ। যেষাং চ ত্বং বহুমতো ভূত্বা যাস্যসি লাঘবম্।। ২.৩৫।।
মহারথীগণ মনে করবে, তুমি ভয় পেয়ে যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করেছ এবং যাদের কাছে তুমি সম্মানিত ছিলে, তাদের কাছে লঘুতা প্রাপ্ত হবে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 36
অবাচ্যবাদাংশ্চ বহূন্ বদিষ্যন্তি তবাহিতাঃ। নিন্দন্তস্তব সামর্থ্যং ততো দুঃখতরং নু কিম।। ২.৩৬।।
তোমার শত্রুরা তোমার সামর্থ্যের নিন্দা করে বহু অকথ্য কথা বলবে, তার চেয়ে অধিক দুঃখদায়ক আর কি আছে?
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 37
হতো বা প্রাপ্স্যসি স্বর্গং জিত্বা বা ভোক্ষ্যসে মহীম্। তস্মাদুত্তিষ্ঠ কৌন্তেয় যুদ্ধায় কুতনিশ্চয়ঃ।। ২.৩৭।।
হে কৌন্তেয়! নিহত হলে তুমি স্বর্গ লাভ করবে, আর জয়ী হলে পৃথিবী ভোগ করবে, অতএব যুদ্ধের জন্য দৃঢ়সঙ্কল্প হয়ে উত্থিত হও।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 38
সুখদুঃখে সমে কৃত্বা লাভালাভৌ জয়াজয়ৌ। ততো যুদ্ধায় যুজ্যস্ব নৈবং পাপমবাপ্স্যসি।। ২.৩৮।।
জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতি ও সুখ-দুঃখকে সমান জ্ঞান করে তারপর যুদ্ধার্থে যুদ্ধ কর, তা হলে পাপভাগী হবে না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 39
এষা তেহভিহিতা সাংখ্যে বুদ্ধির্যোগে ত্বিমাং শৃণু। বুদ্ধ্যা যুক্তো যয়া পার্থ কর্মবন্ধং প্রহাস্যসি।। ২.৩৯।।
হে পার্থ! এই তোমাকে সাংখ্যযোগে বলা হল, এখন যে জ্ঞান দ্বারা তুমি কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারবে বুদ্ধিযোগে ইহা শ্রবণ কর।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 40
নেহাভিত্রুমনাশোহস্তি প্রত্যবায়ো ন বিদ্যতে।স্বল্পমপ্যস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ।। ২.৪০।।
এই যোগ প্রচেষ্টার বিনাশ নেই, ক্ষয়ও নেই, এই ধের্মের অল্প আচরণও মহা ভয় থেকে পরিত্রাণ করে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 41
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিরেকেহ কুরুনন্দন। বহুশাখা হ্যনন্তাশ্চ বুদ্ধয়োহব্যবসায়িনাম্।। ২.৪১।।
হে কুরুনন্দন! এই পথে দৃঢ় সংকল্পযুক্ত বুদ্ধি একাগ্র হয়, কিন্তু যাদের দৃঢ় সংকল্প নেই, তাদের বুদ্ধি বহু শাখায় বিভক্ত ও সীমাহীন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 44
ভোগৈশ্বর্যপ্রসক্তানাং তয়াপহৃতচেতসাম্। ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিঃ সমাধৌ ন বিধীয়তে।। ২.৪৪।।
জড় সুখভোগ ও ঐশ্বর্যে গভীরভাবে আসক্ত সেই বিমূঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের স্থির সংকল্পযুক্ত বুদ্ধি সমাধিস্থ অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয় না।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 45
ত্রৈগুণ্যবিষয়া বেদা নিস্ত্রৈগুণ্যো ভবার্জুন। নির্দ্বন্দ্বো নিত্যসত্ত্বস্থো নির্যোগক্ষেম আত্মবান্।। ২.৪৫।।
বৈদিক শাস্ত্রসমূহে তিনটি গুণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, হে অর্জুন! ত্রিগুণের ঊর্ধ্বে দ্বন্দ্বরহিত, চিরস্থায়ী সত্ত্বে স্থিত, যোগ ও ক্ষেমের ঊর্ধ্বে আত্মজ্ঞানসম্পন্ন হও।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 46
যবানর্থ উদপানে সর্বতঃ সংপ্লুতোদকে।তাবান্ সর্বেষু বেদেষু ব্রাক্ষণস্য বিজানতঃ।। ২.৪৬।।
যখন চারিক জলপূর্ণ তখন ক্ষুদ্র জলাশয়ের যে প্রয়োজন, তেমনই একজন আত্মজ্ঞানী ব্রাহ্মণের কাছে বেদসমূহের প্রয়োজন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 47
কর্কণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন। মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি।। ২.৪৭।।
কর্মে তোমার অধিকার, ফলে কখনোই নয়, অতএব কর্মফলের হেতু হয়ো না এবং কর্মত্যাগেও তোমার আসক্তি না হয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 48
যোগস্থঃ কুরু কর্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত্বা ধনঞ্জয়। সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোং সমো ভূত্বা সমত্বং যোগ উচ্যতে।। ২.৪৮।।
হে ধনঞ্জয়! আসক্তি ত্যাগ করে, সফলতা ও ব্যর্থতায় সমান জ্ঞান করে, যোগে স্থিত হয়ে কর্ম করো, এই সমতাকেই যোগ বলা হয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 49
দূরেণ হ্যবরং কর্ম বুদ্ধিযোগাদ্ধনঞ্জয়। বুদ্ধৌ শরণমন্বিচ্ছ কৃপণাঃ ফলহেতবঃ।। ২.৪৯।।
হে ধনঞ্জয়! বুদ্ধিযোগের তুলনায় অধম ফলাকাঙ্ক্ষী কর্ম পরিত্যাগ করে তুমি বুদ্ধিতে আশ্রয় খোঁজো, যারা ফলের উদ্দেশ্য কর্ম করে, তারা হীন।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 50
বুদ্ধিযুক্তো জহাতীহ উভে সুকৃতদুষ্কৃতে। তস্মাদ্ যোগায় যুজ্যস্ব যোগঃ কর্মসু কৌশলম্।। ২.৫০।।
বুদ্ধিতে যুক্ত ব্যক্তি এই জগতে পুণ্য ও পাপ উভয় পরিত্যাগ করেন, অতএব যোগে যুক্ত হও, সমস্ত কর্মের কৌশলই যোগ।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 51
কর্মজং বুদ্ধিযুক্তো হি ফলং ত্যক্ত্বা মনীষিণঃ। জন্মবন্ধবিনির্মুক্তাঃ পদং গচ্ছন্ত্যনাময়ম্।। ২.৫১।।
বুদ্ধিতে যুক্ত জ্ঞানীগণ কর্মফল ত্যাগ করে, কর্মজাত জন্মবন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে, দুঃখ-দুর্দশারহিত পদে পৌঁছান।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 52
যদা তে মোহকলিলং বুদ্ধির্ব্যতিতরিষ্যতি।তদা গন্তাসি নির্বেদং শ্রোতব্যস্য শ্রুতস্য চ।। ২.৫২।।
যখন তোমার বুদ্ধি মোহরূপ কর্দম অতিক্রম করবে, তখন শ্রুত এবং শ্রোতব্য বিষয় বৈরাগ্য লাভ করবে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 53
শ্রুতিবিপ্রতিপন্না তে যদা স্থাস্যতি নিশ্চলা। সমাধাবচলা বুদ্ধিস্তদা যোগমবাস্প্যসি।। ২.৫৩।।
যখন তোমার বুদ্ধি শ্রুতির দ্বন্দ্বে বিভ্রান্ত না হয়ে নিশ্চলভাবে সমাধিতে স্থিত হবে, তখনই তুমি যোগ লাভ করবে।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 54
অর্জুন উবাচস্থিতপ্রজ্ঞস্য কা ভাষা সমাধিস্থস্য কেশব।
স্থিতধীঃ কিং প্রভাষেত কিমাসীত ব্রজেত কিম্।। ২.৫৪।।
অর্জুন বললেন, হে কেশব! সমাধিস্থ স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির লক্ষণ কি? তিনি কিভাবে বলেন, কিভাবে অবস্থান করেন এবং কিভাবেই বা বিচরণ করেন?
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 55
শ্রীভগবানুবাচপ্রজহাতি যদা কামান্ সর্বান্ পার্থ মেনোগতান্।
আত্মন্যেবাত্মনা তুষ্টঃ স্থিতপ্রজ্ঞস্তদোচ্যতে।। ২.৫৫।।
শ্রীভগবান বললেন, হে পার্থ! যখন একজন ব্যক্তি মনোগত কামনা সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেন এবং নিজের মধ্যে নিজে তুষ্ট থাকেন, তখন তাঁকে স্থিতপ্রজ্ঞ বলা হয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 56
দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ।বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে।। ২.৫৬।।
দুঃখে উদ্বেগহীন, সুখে নিস্পৃহ, আসক্তিশূন্য, ভয়মুক্ত, ক্রোধরহীত মুনিকে স্থিতপ্রজ্ঞ বলা হয়।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 57
যঃ সর্বত্রানভিস্নেহস্তত্তৎ প্রাপ্য শুভাশুভম্।নাভিনন্দতি ন দ্বেষ্টি তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা।। ২.৫৭।।
যিনি সর্বত্র স্নেহশূন্য, শুভ ও অশুভ যা কিছু প্রাপ্ত হন, অভিনন্দিত বা বিদ্বেষ করেন না, তাঁর প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 58
যদা সংহরতে চায়ং কূর্মোহঙ্গানীব সর্বশঃ।ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্যস্তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা।। ২.৫৮।।
কচ্ছপ যেমন নিজের অঙ্গসমূহ সঙ্কুচিত করে, তেমনই যে ব্যক্তি ইন্দ্রিয়সমূহকে সম্পূর্ণভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে প্রত্যাহৃত করতে পারেন, তাঁর জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত।
অধ্যায় : 2 সাংখ্যযোগ ,
শ্লোক নম্বর : 59
বিষয়া বিনিবর্তন্তে নিরাহারস্য দেহিনঃ।রসবর্জং রসোহপ্যস্য পরং দৃষ্ট্বা নিবর্ততে।। ২.৫৯।।
সংযমী ব্যক্তির ইন্দ্রিয়বিষয় ভোগ নিবৃত্ত হয়, তবু বিষয়তৃষ্ণা যায় না, কিন্তু পরম সত্য দর্শন করে সেই বিষয়তৃষ্ণা থেকে নিবৃত্ত হন।
লোড হচ্ছে...